সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী এবং তার স্বামী শামীম তালুকদার লাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দম্পতি গত ১৫ বছরে ৪৯টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেছেন।
হেনরী ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে এইচটি ইমামের আশীর্বাদে ২০০৯ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হন। এই সময়ে আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তার নাম জড়ায়।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, জান্নাত আরা হেনরী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জে বিলাসবহুল রিসোর্ট, বৃদ্ধাশ্রম, গাজীপুরে রাস রিসোর্ট, ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় বহুতল ভবন এবং শতাধিক গাড়ি।
২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ দেখালেও, ২০২৩ সালে এই সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি টাকারও বেশি। তাদের আয় ও সম্পদে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে হেনরী ও তার স্বামী অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পায়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগঃ ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন, অর্থপাচারের অভিযোগ। বর্তমান তারা কারাগারে আটক আছেন, দুদকের মামলার প্রক্রিয়া চলমান, বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা তাদের এই অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
0 মন্তব্যসমূহ